ভয়ংকর স্কুলশিক্ষক, ২০ ছাত্রীকে ধ’র্ষণ বাদ যায়নি ছাত্রীদের মাও

0

পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে কৌশলে ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক এবং এর ভিডিওচিত্র ধারণ করে সেটি দেখিয়ে ওই ছাত্রীদের মায়েদের সঙ্গেও একইভাবে যৌনাচার এবং মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন একটি স্কুলের এক শিক্ষক।

এ অভিযোগে নারায়ণঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার অক্সফোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক আশরাফুল আরিফকে আটক করেছে র‌্যাব। একইসঙ্গে ওই শিক্ষককে মদত দেওয়ার অভিযোগে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককেও আটক করা হয়েছে।

গতকাল ২৭ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলটিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ওই দুই শিক্ষককে আটক করে। এসময় তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্কুলটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, মিজমিজি এলাকার অক্সফোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক আশরাফুল আরিফ প্রায় তিন-চার বছর ধরে পঞ্চম শ্রেণি থেকে শুরু করে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে আসছেন।

তাছাড়া ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সেগুলো দেখিয়ে ছাত্রীদের পরিবারকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে ওই ছাত্রীদের মায়েদের সঙ্গেও একইভাবে যৌনাচার এবং মোটা অংকের অর্থ আদায় করেন। গত কয়েকদিন ধরে এ বিষয়টি স্কুলে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনা জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা স্কুলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের মোবাইল ফোনে ছাত্রীদের ধর্ষণের ভিডিও দেখতে পান।

পরে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও র‌্যাব অক্সফোর্ড হাইস্কুলে উপস্থিত হয়। সেখান থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকেও আটক করে।

এ সময় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলের এক ছাত্রীকে ওই শিক্ষক কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। মেয়েটি এ অভিযোগ করলে আমরা জানতে পারি, ওই শিক্ষক অনেক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করেছে এবং সেগুলো ভিডিও করেছে। ওই শিক্ষককে ধরা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার মোবাইল ফোনেও আপত্তিকর কোনো ছবি বা ভিডিও পাওয়া যায়নি। পরে ওই মোবাইল দোকানে নিয়ে গিয়ে ডিলিট করা ভিডিও উদ্ধার করা হয়। এসব ভিডিও ফাইলে কমপক্ষে ২০ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ধারণ করা আছে।’

এ সময় এক অভিভাবক জানান, এই স্কুলে তো আমাদের সন্তানদের কোনো নিরাপত্তাই নেই। প্রশাসন যদি আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, আমরা এই স্কুলে সন্তানদের পাঠাব না।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল উদ্দিন জানান, আটককৃত শিক্ষক আশরাফুল আরিফের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককেও আটক করা হয়েছে।

Share.

Leave A Reply