সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তখন ‘সঠিক ছিল না’, উপলব্ধি ফখরুলের

0

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বড় হারের পর সংসদে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত বিএনপি নেতারা নিয়েছিলেন, তা ‘সঠিক ছিল না’ বলে উপলব্ধি হয়েছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

বিএনপির নির্বাচিত ছয় জনের মধ্যে পাঁচজন এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দলের ভেতরে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে ফখরুলের এই স্বীকারোক্তি এল।

রোববার এক অনুষ্ঠানে ফখরুল বলেন, “আমরা অতীতে যে বলেছিলাম যে আমরা (সংসদে) যাব না, সেই সিদ্ধান্তটা আমাদের ওই মুহূর্তে সঠিক ছিল না- এটা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’র অভিযোগ তোলার পর সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। জোটভুক্ত দল গণফোরামের দুজন শপথ নেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছিল দলটি।

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান জাহিদ দলের ওই সিদ্ধান্ত না মেনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল।

কিন্তু ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্পিকারের কাছে শপথ নিয়ে অধিবেশনে যোগ দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আব্দুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম ও বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন। জাহিদুর রহমান জাহিদও ছিলেন তাদের সঙ্গে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয়জনের মধ্যে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ফখরুলই কেবল সংসদের বাইরে থেকে যান।

সে সময় তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। আর দলীয় সিদ্ধান্তেই তিনি শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। এটা তাদের ‘কৌশলেরই অংশ’।

নিজে শপথ না নিলেও এ বিষয়ে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় ফখরুল বলেন, “শুধু সস্তা স্লোগান দিয়ে কথা বললে চলবে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) মহোদয়। এ কারণেই যে, আমাদেরকে দুই দিকেই লড়াইটা করতে হবে। ওই ভেতরের থেকেও কথা বলতে হবে, বাইরে থেকেও কথা বলতে হবে।”

বিএনপি ‘ঐক্যবদ্ধ’ আছে এবং দলে কোনো ‘সমস্যা নাই’ দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। এই কঠিন-সংকটময় মুহূর্তে আমাদের কমিটমেন্ট রাখতে হবে। বিপদ সামনে নিয়েও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কখনো নিরাশ হবেন না, হতাশ হবেন না। বুক বেঁধে সোজা হয়ে দাঁড়ান। নেভার গিভ আপ।”

দলের বিষয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে তা দলীয় ফোরামের বাইরে না বলার জন্য নেতাদের প্রতি অনুরোধ রাখেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, “আমাদেরকে একটা কথা মনে রাখতে হবে- রাজনীতিতে স্থির বলে কোনো কথা নেই। এটা পরিবর্তন হয়। ১৯৯০ সালের যে চিন্তা, যে ভাবনা, সেই পরিস্থিতি কী ২০১৯ সালে আছে? সুতরাং আমাদেরকে ২০১৯ সালের রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করে, পর্যবেক্ষণ করে পথ বের করার চেষ্টা করতে হবে। ২০০১ সালের অবস্থা এবং এখনকার অবস্থা কী এক? রাশিয়ার বিপ্লব ১৯১৭ সালে হয়েছিল, এখন কী সেই রাশিয়া আছে?”

নেতিবাচক চিন্তায় এখন আর এগোনো যাবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “পজেটিভ চিন্তা করতে হবে। যখন যেখানে যতটুকু সুযোগ পাওয়া যাবে সেই সুযোগটুকু নিয়ে আমাদেরকে এগোতে হবে। আমাদের সব জায়গা থেকে লড়াইটা করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে, পথ বের করে নিতে হবে। আপনি যতই বলেন, এখানে যারা আছেন তারা প্রত্যেকে লড়াকু ছেলে-পেলে। এরা প্রত্যেকে লড়াকু সৈনিক, বার বার জেলে যাচ্ছে, আসছে। কাজ হচ্ছে না। তাই আমাদেরকে রাস্তা বের করতে হবে।”

কারা তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে ফখরুল বলেন, “কারাগারের মধ্যে তার যদি স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, এর সকল দায়-দায়িত্ব এই সরকারকেই বহন করতে হবে।”

সাবেক সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সম্মিলিত ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নাহিদুল ইসলাম নাহিদ।

অন্যদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা শাহিন শওকত, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসিন আলী, শফিকুল ইসলাম মিল্টন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

Share.

Leave A Reply