বাড়ছে চালের দাম

0

নির্বাচনের পরপরই নতুন বছরের শুরুতে বেড়েছে চালের দাম। সারা দেশে সব ধরনের চালে কেজি প্রতি দাম বেড়ে অন্তত দুই থেকে তিন টাকা। পাইকারি বাজারে চালের দামবৃদ্ধির এ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারেও।

তবে চালের এমন দাম বৃদ্ধিকে কৃষকের জন্য ইতিবাচক বলছেন এ খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্যমতে, আমনের মওসুমের শেষ দিকে এসে সব ধরনের ধানের দাম মণ প্রতি ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

মিরপুর পীরেরবাগের মো. পলাশ নামের একজন খুচরা বিক্রেতা শুক্রবার বলেন, ‘ভোটের পর চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি মিনিকেট ৫২ টাকা থেকে ৫৪ টাকা, বিআর আটাশ ৪০ টাকা এবং পাইজাম ৩৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

ঢাকার পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, নির্বাচনের তিন দিন আগে পরিবহন ব্যবস্থায় কড়াকড়ির কথা বলে চাল সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলেন মিলাররা। নির্বাচনের পর চাল সরবরাহ শুরু হলেও মিলগুলো থেকেই প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) দুই ধাপে ১০০ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার মিরপুর-১ নম্বর বাজারে চালের পাইকারি বিক্রেতা জননী রাইস এজেন্সির মালিক মো. মহিউদ্দিন হারুণ বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে অন্তত দুই টাকা বেড়েছে। সুগন্ধি চাল কেজিতে বেড়েছে ৩ টাকা করে। দেশের বিভিন্ন জেলার মিলগুলোতে দাম বাড়ার কারণেই তারাও দাম বাড়াতে ‘বাধ্য হচ্ছেন’।

এই ব্যবসায়ীর দেয়া তথ্য মতে, গত রোববার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে মাঝারি মানের চালের দাম (পাইজাম, লতা ও বিআর আটাশ) পাইকারিতে ছিল প্রতি বস্তা ১৬৫০ টাকা। এখন এই চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০ টাকা। একইভাবে সাধারণ মানের মিনিকেট চাল বস্তা প্রতি ২২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মিনিকেট (রশিদ মিনিকেট) ২৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সুগন্ধি চাল যেগুলোর বস্তা ৩৮০০ টাকা করে বিক্রি হত, সেগুলো এখন পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫০ টাকায়। ভালো মানের সুগন্ধি চাল যেগুলো ৪২০০ টাকায় বস্তা বিক্রি হত, সেগুলো এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৪৩৫০ টাকায়।

গত পহেলা ডিসেম্বর থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয় লাখ টনেরও বেশি আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, এবার আমন চালের উৎপাদন খরচ পড়েছে সাড়ে ৩৪ টাকা। বাজার পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে, খোঁজ-খবর নিয়ে মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নতুন করে মজুদ শুরুর আগে সরকারি গুদামে চাল ও গমসহ ১২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল, যার মধ্যে ৯ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন ছিল চাল।

এর আগে চালের দাম খুব বেশি বেড়েছিল ২০১৭ সালের মধ্যভাগে।

Share.

Leave A Reply