মাদক ব্যবসায়ীদের দেখা মাত্রই গুলি করার সিদ্ধান্ত

0

নির্মূলে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন। কারণ জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।  মঙ্গলবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এমপি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সংলাপে সবাই যদি মনে করেন, মাদক দেশের এক নম্বর সমস্যা, তা হলে কঠোর হতে হবে। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মাদক ব্যবসায়ীদের দেখামাত্র গুলি করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ডিএনসি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা মাদক নির্মূলে ডিএনসিতে লোকবল বাড়ানো, সদস্যদের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়ার কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান এসব বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, মন্ত্রী হিসেবে এসবের সঙ্গে একমত হলেও মাদক নির্মূলে নাগরিক হিসেবে তার ভিন্নমত রয়েছে।

গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদক নির্মূলের জন্য এক লাখ পুলিশ সদস্য নিয়োগ করলেও কাজ হবে না। এর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করতে হবে। শিকড় পর্যন্ত উৎপাটন করতে হবে। যদি মাদক বন্ধ করতে চান তা হলে জড়িতদের মধ্যে কে কার সন্তান, কে ছাত্র, কার পরিচয় কী- এসব দেখলে হবে না। মাদক নির্মূলে একটাই কথা- শুট অন সাইট (দেখামাত্র গুলি)।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মাদক নির্মূলে এমন করেছে জানিয়ে মন্ত্রী মোস্তাফিজুর বলেন, এটা করতে পারলে সব ঠিক হয়ে যাবে। গডফাদার, বাহক সবাই কেঁপে উঠবে। অবশ্য তা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, তা না হলে কাদের দিয়ে মাদক নির্মূল করবেন? যাদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করবেন, রোগ তো সেখানেই।

গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদক নির্মূল করা না গেলে সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়। এই সরকার জঙ্গি দমন করতে পেরেছে, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করেছে, মাদক নির্মূলও করতে পারবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুন্‌শী বলেন, অনেক সমস্যা রয়েছে। এসবের মধ্যেই মাদক নির্মূলে লড়াই করতে হবে। নিদ্রাহীন কাজ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, মাদক সম্রাট বা গডফাদারদের কাছাকাছি যাওয়া যাচ্ছে না। তাই মাদক নির্মূল করা যাচ্ছে না। ডিএনসির ১৭শ’ জনবল দিয়ে তা সম্ভব নয়। সব সংস্থা মিলে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। সেটা শুরুও হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে ঘৃণা করতে হবে। মাদক নির্মূলে জনবল বৃদ্ধি এবং কপবাজার ও টেকনাফে বিশেষ অঞ্চল গড়ার কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ৭০ হাজার কারাবন্দির মধ্যে অন্তত ২৩ হাজার মাদকে যুক্ত। তাদের কেউ হয় মাদক ব্যবসায়ী, না হয় মাদকসেবী। তাই মাদক নির্মূলে বিভিন্ন অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি জামাল উদ্দিন জানান, ইয়াবা ব্যবসায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে তারা আইন তৈরির কাজ করছেন। সিসাকে মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে ডিএনসির ১৮টি লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে চলতি বছর অন্তত ৫০ জন মাদক গডফাদারকে গ্রেফতারের ঘোষণা দেন ডিজি।

জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, দেশে ৭০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। তাদের ৮০ থেকে ৯০ ভাগই তরুণ। নারীরাও মাদকে আসক্ত হচ্ছে। গত ১০ বছরে অন্তত ২০০ অভিভাবক তাদের মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে খুন হয়েছেন বলেও তথ্য দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নির্মূল অধিদপ্তর করতে হবে। দুঃসাহসিক অভিযান চালাতে হবে। তা না হলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হকসহ ডিএনসির কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এর আগে প্রধান অতিথি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি অতিথিদের নিয়ে অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রদর্শনী ও মেলা ঘুরে দেখেন।

Share.

Leave A Reply