উপজেলায় ডাক্তার না থাকলে চাকরিচ্যুতি: প্রধানমন্ত্রী

0

ডেস্ক রির্পোট★ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে ডাক্তারকেই আমরা উপজেলায় নিয়োগ দিচ্ছি, যেই আমরা তাদের উপজেলায় পাঠাচ্ছি, তারাই সেখানে না থেকে যে কোনোভাবে কায়দা করে ঢাকায় এসে বসে থাকে। তাহলে তাদের সরকারি চাকরির দরকার কি? জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে নিয়োগ পেয়ে যেসব ডাক্তার সেখানে যান না, তাদেরকে আর সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হবে।

বৃহস্পতিবার গণভবনে বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ডাক্তাররা নিয়োগ পাওয়ার পর মফস্বলে পোস্টিং হলেই ঢাকায় চলে আসেন। এখন অনেক প্রাইভেট ক্লিনিক আছে, তাতে কোথাও যদি তারা চাকরি পেয়ে যায়, তাহলে খুব ভালো কথা। এভাবে চলে আসার ইচ্ছা থাকলে তাদের চাকরি ছেড়ে ঢাকার প্রাইভেট ক্লিনিকে চাকরি নেয়ায় ভাল। এমন হলে ট্রেইনিং দিয়ে আমরা নতুন নিয়োগ দেবো।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গত এক দশকে দেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হলেও চিকিৎসকদের মফস্বল শহর বা উপজেলা এবং গ্রাম এলাকায় না থাকার প্রবণতা রোধ করা যায়নি। বিশেষ করে দূর গ্রামের হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসকশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকে। এমন অভিযোগও আছে, বেতন হওয়ার আগে এলাকায় গিয়ে উপস্থিতি খাতায় সই করে আসেন তারা।

শেখ হাসিনা বলেন, কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এখন পড়াশোনা করছেন। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে আমার ওখানে দেবো, কিছু ট্রেইনিং করবে, কিছু সার্ভিস দেবে, আরেক জায়গায় যাবে, এটা কোনো বিষয়ই না, এটা নিয়ে মনে হয় এতটা মাথা ঘামানোর প্রয়োজনও নাই।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ট্রাস্ট গঠন করা হবে। তা হলে কেউ ইচ্ছে করলেই এটি আর বন্ধ করতে পারবে না। এতে করে ভবিষ্যতেও জনগণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

এই প্রশিক্ষণের জন্য একটি তহবিল করার কথাও জানানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নইলে অন্য কেউ সরকারে আসলে এই উদ্যোগ তারা বন্ধ করে দেবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়ার উদারহণ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে চিকিৎসা পেলে সবাই নৌকায় ভোট দেবে, আমাদেরকে কেউ ভোট দেবে না- এই কথাটা বলে (কমিউনিটি ক্লিনিক) বন্ধ করে দিয়েছিল। এ রকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেউ, এটা চিন্তাও করা যায় না। কেবল এই একটা ব্যাপারে না, আরো বহু ব্যাপারে এই রকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বিএনপি-জামায়াত নিয়ে গেছে যার জন্য আমাদের অনেক খেসারতও দিতে হয়েছে।

একই সময় পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে শপথ পড়ান প্রধানমন্ত্রী।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Share.

Leave A Reply