পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকা

0

বাজারে এসেছে নতুন পেঁয়াজ। এরপরও রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কমছে না বরং উল্টো বাড়ছে। খুচরা বাজারে সেঞ্চুরির ছাড়িয়ে পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া এবং খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি বিক্রেতারা এক পাল্লা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫৫০-৫৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম পড়ছে ১১০-১১৬ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ এক পাল্লা ৩৫০-৩৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজি ৭০-৭৫ টাকা।বাজারটিতে খুচরাও পেঁয়াজ বিক্রি করছেন কিছু কিছু ব্যবসায়ী। খুচরা বিক্রেতারা প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১২০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকা কেজি।

এদিকে কারওয়ানবাজারের কিছু কিছু ব্যবসায়ী নতুন পেঁয়াজও বিক্রি করছেন। বাজারটিতে প্রতিকেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। তবে একবারে পাঁচ কেজি নিলে দাম পড়ছে ৯৫ টাকা।

কারওয়ানবাজারের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. রুবেল মিয়া বলেন, প্রতিদিনই পেঁয়াজের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। শুক্র থেকে রোববার পর্যন্ত এক পাল্লা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৪০- ৫৫০ টাকায়। সোমবার থেকে দাম বেড়ে হয়েছে ৫৮০ টাকা।

তিনি বলেন, শ্যামবাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি। এ দামে পেঁয়াজ এনে ৮০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব না। শুধু ভারতীয় পেঁয়াজ না, শ্যামবাজারে নতুন পেঁয়াজের দামও চড়া।

প্রতিকেজি নতুন পেঁয়াজ শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৮০ টাকা কেজি। এই দামে পেঁয়াজ কিনলে কমপক্ষে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হবে। নতুন পেঁয়াজ পাইকারিতে কে ১০০ টাকায় কিনবে? তাই নতুন পেঁয়াজ আনিনি, বলেন রুবেল মিয়া।

বাজারটিতে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এমন একজন ব্যবসায়ী আলামিন। তিনি বলেন, আমি ৮০ টাকা কেজি দরে নতুন পেঁয়াজ কিনে এনেছি। সেই পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১০০ টাকা। এরপরও পেঁয়াজ বিক্রি করে খুব একটা লাভ হচ্ছি না। কারণ শ্যামবাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে এখানে আনতে যে খরচ হয় তাতে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ৯০ টাকার ওপরে পড়ে যায়। আবার এই জায়গারও তো ভাড়া আছে। সব খরচ মিলিয়ে খুব একটা লাভ থাকে না।

সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১৩০-১৪০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮০-৯০ টাকা।

বাজারটির ব্যবসায়ী মো. আলম বলেন, শুক্রবারও এককেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ১২০ টাকায়। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১৪০ টাকা। কারণ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। যাদের পেঁয়াজ মজুত ছিল তারা ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। দুই-একদিনের মধ্যে তাদের পক্ষে ১৪০ টাকা নিচে বিক্রি সম্ভব না।

শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ১২০-১৩০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৮০-৯০ টাকা।

বাজারটিতে কথা হয় ব্যবসায়ী মো. আবুল বাশারের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসলে দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। নতুন পেঁয়াজ আসার পর দাম আর এক দফা বেড়েছে। গত শুক্রবারই দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ১২০ টাকা। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ১৩০ টাকা কেজি। কারণ আগে যে পেঁয়াজ ১০৮ টাকা কেজি কিনেছি আজ তা কিনতে হয়েছে ১১৬ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষে ১৩০ টাকার নিচে এককেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা সম্ভব না। তবে কেউ কেউ ১১৫-১২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। তারা কম দামে বিক্রি করতে পারছেন, কারণ তাদের পেঁয়াজ মজুত ছিল। এখন পেঁয়াজ এনে কারও পক্ষে ১৩০ টাকার নিচে বিক্রি সম্ভব না।

Share.

Leave A Reply