বৈষম্য হ্রাস করে সবার কাজের সমন্বয় ও জবাবদিহিতা দরকার

0
২৪অর্থনৈতিক সংবাদ★★এসডিজি নিয়ে নাগরিক সম্মেলনে অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে বৈষম্য কমাতে হবে। দেশ বা সমাজ অর্থের বৈষম্যে তৈরি হয়েছে। সেই সাথে সম্পদেরও বৈষম্যে সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো দূর করতে হলে আমাদের চিন্তার ও ধারণার পরিবর্তন আনতে হবে। আর সবার কাজের সমন্বয় ও জবাবদিহি দরকার।ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন প্রবৃদ্ধির সুষম বণ্টন।রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নাগরিক সম্মেলন ২০১৭ : বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সম্মেলনের প্রারম্ভিক অধিবেশনে অর্থনীতিবিদ ও বক্তারা একথা বলেন। 

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান, বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, টিআইবি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, ইউএনপডিপির আবাসিক প্রতিনিধি ইয়াকো একোসাকা ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম। 
অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, এসডিজি অর্জনে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর চাহিদার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে। কাজ করার পাশাপাশি নজরদারিও বাড়াতে হবে।

ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশ বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধন করেছে। মেধা এখন শক্তির পরিচয় বহন করে। কিন্তু এর পাশাপাশি মানুষের ব্যর্থতাও কম নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেলেও ন্যুনতম চিকিৎসা থেকে এখনো বঞ্চিত বহু মানুষ। আমরা দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকা দেখে যেমন মুগ্ধ হই, কিন্তু ভুলে যাই বহু মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বেশির ভাগ সম্পদ কিছু মানুষের হাতে। তাই বলা যাবে না মানুষের সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে। সমাজ ও দেশে নিষ্ঠুরতা বেড়েছে। তার প্রমাণ রোহিঙ্গা নির্যাতন, ঘরে ঘরে নারী নির্যাতন।

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন তার নাগরিকত্ব বোধ থেকে মনে করেন, আমরা পেছনে পড়ে থাকবো না। সবাই আজ শপথ করবো, কেউ আমাদের পেছনে ফেলে রাখতে পারবে না।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জাতীয় জবাবদিহিতার কাঠামো বিভাজিতভাবে দেখা যাবে না। আমরা এখনো গেইম অব নাম্বারস এর মধ্যে আছি। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা কি? বৈষম্য দূর করতে পারবো।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘৭১ সালের সেই অতীত ছিল শোষণ ও বঞ্চনার। কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না এটা যেন আমাদের দেশে বাস্তবায়িত হয়। গড় থেকে বের হয়ে প্রান্তিকতার বিবেচনা করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়ন করলে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে। নারী, প্রতিবন্ধীদের বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, স্থানীয় সরকার ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সব কাজের ক্ষেত্রেই সুশীল সমাজকে যুক্ত করতে হবে। সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও সুশীল সমাজ একত্রিত হয়ে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এক্ষেত্রে উদাহরণ আমার নারায়ণগঞ্জ।

Share.

Leave A Reply