নেশার জগতে নতুন সংযোজন ইলেক্ট্রনিক সিগারেট

0

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক★ নেশার জগতে নতুন সংযোজন ইলেক্ট্রনিক সিগারেট। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজধানীর নামিদামি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও এই সিগারেটকে নেশা হিসেবে ব্যবহার করছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কারণ সিসা-মাদকের মতোই অনেকটা ফ্যাশন হিসেবে এখন তরুণ সমাজ ইলেক্ট্রনিক সিগারেটের ধোঁয়া নিচ্ছে। এই নেশা পরবর্তী সময়ে আরও ক্ষতিকর নেশায় আসক্ত হতে অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করছে।

জানা গেছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থা কিছুদিন আগে ইলেক্ট্রনিক সিগারেটের নানা ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। পরে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে ই-সিগারেট আমদানি বন্ধের সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব।

স্কুল-কলেজপড়–য়া ছেলেমেয়েরা ইলেক্ট্রনিক সিগারেটের নেশায় আসক্ত হচ্ছে কিনা তা নজরদারি করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২০০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চীন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ইলেক্ট্রনিক সিগারেট আমদানি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ধূমপায়ী সিগারেট ছাড়তে ইলেক্ট্রনিক সিগারেট ব্যবহার করছে। তারা আবার উল্টো কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ইলেক্ট্রনিক সিগারেটে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এটাতে কী ধরনের কেমিক্যাল আছে এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য কতটুক ক্ষতিকরÑ এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খতিয়ে দেখছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও বিএমএর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেছেন, অনেকে ধূমপানের অভ্যাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে ইলেক্ট্রনিক সিগারেটের ধোঁয়া নিয়ে থাকেন; কিন্তু এটা সাধারণ সিগারেটের চেয়েও ক্ষতিকর। কারণ ইলেক্ট্রনিক সিগারেটের পুরোটাই কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি। এটি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। আমরা এ ধরনের সিগারেটের আমদানি বন্ধের পক্ষে। এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে এ ধরনের সিগারেটের প্রচার-প্রসার বন্ধ করা হোক।

মাদক বিশেষজ্ঞদের মতে ই-সিগারেট হচ্ছে প্রচলিত সিগারেটের একটি আধুনিক বিকল্প। এগুলো সাধারণত লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি দ্বারা চালিত হয় এবং একধরনের জলীয় বাষ্প তৈরি করে। এ প্রযুক্তিতে ব্যাটারি অন করার পর এটি একটি হিটিং কয়েলকে উত্তপ্ত করে, যাকে অ্যাটোমাইজার বলা হয়। কম তাপমাত্রায় এটি একটি বিশেষ ধরনের তরল পদার্থকে বাষ্পিভূত করে সিগারেটের ধোঁয়ার মতো সৃষ্টি করে। প্রচলিত সিগাররেটের মতোই এ বাষ্প ধূমপায়ীদের তৃপ্তি দেয়।

জানা গেছে, ই-লিকুইডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ফুড ফ্লেভারে ব্যবহার করা হয়। তবে উন্নতমানের ই- লিকুইডে সাধারণত একাধিক ফ্লেভারের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। ই-লিকুইডে নিকোটিন থাকা বা না থাকা ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। নিকোটিনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শক্তিমাত্রায় ই-লিকুইড পাওয়া যায়। ইলেকট্রনিক সিগারেটের ধোঁয়া অতিমাত্রায় ব্যবহারে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ই-গো স্টাইল স্টার্টার কিট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ই-সিগারেট মডেল। এগুলোতে রিচার্জেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থাকে, যার আয়ু কমপক্ষে ৬ মাস। এতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাটোম্ইজার ব্যবহার করা যায়।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে চীনে ফার্মাসিস্ট ডনলিড আধুনিক ই- সিগারেট আবিষ্কার করেন। যার নাম এখন ইলেকট্রনিক সিগারেট। ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, বাষ্পিভবন, অ-ওষুধ নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, তরল সিগারেট ইত্যাদি নামে দেশ-বিদেশে এর পরিচিতি রয়েছে। এ সিগারেট একটি হ্যান্ডহেন্ড ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা তামাকজাতীয় ধূমপানের অনুভূতি এনে দেয়। ই-সিগারেট ব্যবহার করাকে ভ্যাপিংও বলা হয়। এ সিগাটে প্রোপাইলিন গ্লাইকোল, গ্লিসারিন এবং ফ্রেভারিংস মিশ্রিত হয়ে নতুন এক প্রকার নিকোটিন তৈরি হয়।

Share.

Leave A Reply